মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স মুজিবনগর এর প্রধান আকষন। এই আকর্ষনে প্রতি বছরে দেশ-বিদেশের অগনিত পর্যটক এখানে ছুটে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় এর অধিন এই কমপ্লেক্স। কিন্তু মন্ত্রনালয় এর নিজস্ব কোন জনবল এখানে নেই। ফলশ্রুতিতে কমপ্লেক্স এর উন্নয়ন কাজ যেমন পিছিয়ে পড়ছে তেমনি নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই কমপ্লেক্স হারিয়ে ফেলছে জৌলুস। সম্প্রতি নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে এক প্লাটুন আনছার। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় এর অর্থায়নে গণপূর্ত বিভাগ, মেহেরপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজে নিয়েজিত আছে।

 

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার মেহেরপুর সদর থানার (বর্তমান মুজিবনগর উপজেলা)বাগোয়ান ইউনিয়নবৈদ্যনাথতলা গ্রামের ঐতিহাসিক আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের বরেণ্য সাংবাদিকেরা উপস্থিত থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচার করেন। এ ঐতিহাসিক ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নতুন প্রাণ সঞ্চার করে এবং বাংলাদেশ সরকারের আইনানুগ বৈধতা প্রদান করে।

 

ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণের স্থানে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। উক্ত স্মৃতিসৌধ ও ঐতিহাসিক আম্রকানন যেকোন পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

 

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার এর শপথ গ্রহণের স্থান হিসেবে মুজিবনগর ঐতিহাসিকভাবে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। শপথ গ্রহণের স্মৃতিকে অম্লান করে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে শপথগ্রহণের স্থানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানের আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলার লক্ষ্যে উক্ত কমপ্লেক্সে একটি মানচিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরকে দেখানো হয়েছে। এই কমপ্লেক্স মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলীর স্মারক ম্যূরাল স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স, ঐতিহাসিক আম্রকানন, ঐতিহাসিক ছয় দফার রূপক উপস্থাপনকারী ছয় ধাপের গোলাপ বাগান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত প্রদর্শন হিসাবে বিবেচিত হবার দাবী রাখে।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের ভিতরের অংশে মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতি কমপ্লেক্সের বাইরের অংশে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ এবং পাকিস্থানি বাহিনীর আত্নসমর্পণ এর দৃশ্যসহ আরও ঐতিহাসিক ঘটনার ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। উক্ত ভাস্কর্যগুলির কয়েকটি এখানে দেওয়া হলো। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত উক্ত ভাস্কর্যগুলি যেকোন বিদগ্ধ পর্যটককে আকর্ষণ করবে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন সেক্টরের অবস্থান বাংলাদেশের মানচিত্রে প্রদর্শন করে মানচিত্রটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরস্থ মূল আঙ্গিনায় স্থাপন করা হয়েছে। সুদৃশ্য এ মানচিত্রটি মুক্তযুদ্ধকালীন বিভিন্ন সেক্টরের অবস্থান ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী সম্পর্কিত এক প্রমাণ্যচিত্র।

কিভাবে যাওয়া যায়:

মুজিবনগর থেকে পায়ে হেটে, মেহেরপুর থেকে বাস অথবা অটোরিক্সাতে যাওয়া যায়। মেহেরপুর জেলা সদর থেকে সড়ক পথে আম্রকাননের দূরত্ব ১৮ কি: মি:। বাস, স্থানীয় যান টেম্পু/লছিমন/করিমন এর সাহায্যে ৩০ মি: সময়ে ঐতিহাসিক আম্রকাননে পৌছানো যায়।মেহেরপুর সদর হতে বাস ভাড়া ১৫-২০ টাকা ।